R x

কী কী আছে

চেম্বারের কাজটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত

রোগী ঢোকার আগে সিরিয়াল, বসার পর প্রেসক্রিপশন, বেরোনোর সময় ফি, আর দিনের শেষে হিসাব। নিচের ছবিগুলো সত্যিকারের সফটওয়্যারের — চালু অবস্থায় তোলা।

প্রেসক্রিপশন

যেভাবে আপনি লেখেন, সেভাবেই

বাঁ পাশে অভিযোগ, পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়, পরামর্শ; ডান পাশে ওষুধ। ব্র্যান্ডের নাম লিখতে শুরু করলেই DGDA-র তালিকা থেকে সামনে আসে — স্ট্রেংথ, জেনেরিক, কোম্পানি, ধরন। ডোজ (১+০+১) আর কত দিন বসিয়ে দিলে মোট কতগুলো লাগবে সে নিজেই লিখে দেয়।

  • এলার্জি লেখা থাকলে রোগীর নামের পাশে লাল হয়ে থাকে
  • “আগেরটাই আবার” এক ক্লিকে
  • নিজের টেমপ্লেট — যেসব রোগে রোজ একই ওষুধ
  • প্রতিটি ওষুধের নিচে আলাদা নোট লেখা যায়
প্রেসক্রিপশন লেখার পর্দা — বাঁয়ে অভিযোগ ও রোগ নির্ণয়, ডানে নাপা ৫০০ মি.গ্রা. ও সেকলো ৪০ মি.গ্রা.

ছাপা

আপনার প্যাড, আপনার মাপ

ছাপানো প্যাড ব্যবহার করলে উপরের কত মিলিমিটার ফাঁকা রাখতে হবে বলে দিন — বাকিটা সে বুঝে নেবে। প্যাড না থাকলে আপনার নাম, ডিগ্রি, বিএমডিসি নম্বর আর চেম্বারের ঠিকানাসহ পুরোটা ছাপবে।

  • A4 ও A5
  • ছাপার আগে হুবহু দেখে নেওয়া যায়
  • PDF করে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো যায়
  • ওষুধের নিচে জেনেরিক নাম ছোট করে
ছাপার প্রিভিউ — উপরে ডাক্তারের নাম ও বিএমডিসি নম্বর, নিচে ওষুধ ও পরামর্শ

রোগীর ফাইল

মোবাইল নম্বরই রোগীর পরিচয়

বাংলাদেশে নাম দিয়ে রোগী খোঁজা কাজ করে না — একই নামের রোগী অনেক। তাই মোবাইল নম্বরই মূল পরিচয়। নম্বর লিখলেই আগের সব ভিজিট, কী কী ওষুধ দিয়েছিলেন, কী রোগ ছিল, সব সামনে আসে।

  • বয়স মাস ধরে গোনা — শিশুর ক্ষেত্রে যেটা জরুরি
  • এলার্জি একবার লিখলে চিরকাল সামনে থাকে
  • যাঁদের ফলো-আপে আসার কথা ছিল, আসেননি — তালিকা হয়
রোগীর ফাইল — নাম, বয়স, মোবাইল, এলার্জির সতর্কতা ও আগের ভিজিটের তালিকা

ওষুধের তালিকা

DGDA-র নিবন্ধিত ৩৮,২০২টি ওষুধ

ব্র্যান্ড দিয়েও খোঁজা যায়, জেনেরিক দিয়েও। “নাপা” লিখলে নাপাই আগে আসে — নাপ্রোক্সেন নয়। কম্বিনেশনের আগে একক মলিকিউল, সিরাপের আগে ট্যাবলেট, কারণ চেম্বারে সাধারণত সেটাই লাগে।

  • নতুন ওষুধ নিবন্ধিত হলে আলাদা আপডেটে চলে আসে
  • DAR নম্বর রাখা আছে, প্রেসক্রিপশনে ছাপে না
  • নিজের ওষুধও যোগ করে রাখতে পারেন
৩৮,২০২

ডেস্ক ও সহকারী

সহকারীর মোবাইলই ডেস্ক

চেম্বারের ওয়াই-ফাইয়ে থেকে সহকারী ছয় অঙ্কের একটি কোড দিয়ে যুক্ত হন। তারপর সিরিয়াল দেওয়া, ভেতরে ডাকা, ফি নেওয়া — সব ওই মোবাইল থেকেই। ইন্টারনেট লাগে না, কারণ মোবাইলটি সরাসরি আপনার কম্পিউটারের সাথে কথা বলে।

  • কোন মোবাইল কী করতে পারবে, আলাদা করে ঠিক করা যায়
  • শুধু সিরিয়াল দেওয়ার মোবাইল টাকার ঘরে ঢুকতে পারে না
  • প্রেসক্রিপশন বা রোগীর ফাইল মোবাইলে যায় না
  • মোবাইল হারালে এক ক্লিকে বাতিল
সহকারীর মোবাইলে অপেক্ষমাণ রোগীর তালিকা

সহকারীর মোবাইলে সিরিয়াল

অনলাইন সিরিয়াল ও ডিপোজিট

ডিপোজিট দুইভাবে — যেটা আপনার চেম্বারে চলে

রোগী একটি লিংক থেকে সিরিয়াল নেন। ডিপোজিট চাইলে দুটি পথ: বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে — রোগী ওখানেই টাকা দেন, সিরিয়াল আপনা-আপনি নিশ্চিত হয়ে যায়; অথবা নিজে পাঠিয়ে — রোগী আপনার বিকাশ নম্বরে পাঠিয়ে ট্রানজেকশন আইডি লেখেন, আর ডেস্কে সেটি মিলিয়ে নেওয়া হয়। গেটওয়ের অ্যাকাউন্ট খুলতে সময় লাগে, তাই দ্বিতীয় পথটি প্রথম দিন থেকেই কাজে লাগে।

  • দিনে কয়টি অনলাইন সিরিয়াল দেবেন, আর কয়টি চেম্বারে আসা রোগীর জন্য রাখবেন
  • আনুমানিক সময় — ৩০ মিনিটের হাতসহ
  • দেরিতে বসলে রোগীর লিংকে নতুন সময় দেখা যায়
  • লাইভ বোর্ড — চেম্বারের টিভিতেও চালানো যায়
সিরিয়াল নেওয়ার পাতা, বিকাশে ডিপোজিট পাঠানোর নির্দেশনাসহ

রোগী সিরিয়াল নিচ্ছেন

আদায় ও হিসাব

মাস শেষে চেম্বারের সাথে হিসাব মেলানো

ফি ওঠার সাথে সাথেই লেখা হয় — নগদ, বিকাশ না কার্ড; নতুন রোগী না ফলো-আপ। চেম্বারের ভাগ থাকলে সেটি আপনা-আপনি বাদ যায়, তাই মাস শেষে আপনার কত আর চেম্বারের কত, তা নিয়ে তর্কের জায়গা থাকে না।

  • দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর — যেভাবে দেখতে চান
  • কোন রোগ বেশি এল, কোন ওষুধ বেশি লিখলেন
  • কোন চেম্বার থেকে কত এল
হিসাবের পর্দা — মোট আদায়, রোগীর সংখ্যা, চেম্বারভিত্তিক আয় ও সবচেয়ে বেশি লেখা ওষুধ

ব্যাকআপ

একটি ফাইলেই পুরো প্র্যাকটিস

পেনড্রাইভে নিন বা নিজের গুগল ড্রাইভে — একটি ফাইল, যার ভেতরে রোগী, ভিজিট, প্রেসক্রিপশন, হিসাব সব। আপনার recovery passphrase ছাড়া কেউ সেটি খুলতে পারবে না, আমরাও না। কম্পিউটার বদলালে ওই ফাইলটিই যথেষ্ট।

  • শেষ কবে ব্যাকআপ নেওয়া হয়েছে, পর্দায় লেখা
  • গুগল ড্রাইভে কেবল এই অ্যাপের ফাইলগুলোই আমরা দেখি
  • ফেরানোর আগে দেখিয়ে দেয় ভেতরে কী আছে
ব্যাকআপের পর্দা — শেষ কবে নেওয়া হয়েছে এবং কোথায় রাখা হবে

AI সহায়তা

যেখানে সাহায্য লাগে, ঠিক সেখানেই

AI এখানে ডাক্তারি করে না। যা করে তা হলো লেখার কাজ কমায় — ল্যাব রিপোর্টের ছবি থেকে মান তুলে আনা, রোগীর জন্য বাংলায় পরামর্শ সাজিয়ে দেওয়া, লম্বা ইতিহাস সংক্ষেপে লিখে দেওয়া। প্রতিটি বোতামে চাপার আগে আনুমানিক খরচ দেখায়।

  • নিজের API key ব্যবহার করলে আমাদের কোনো টাকা দিতে হয় না
  • key আপনার মেশিনে এনক্রিপ্ট করা থাকে
  • AI বন্ধ রেখেও পুরো সফটওয়্যার চলে

আগে খরচ, তারপর কাজ

প্রতিটি AI বোতামের পাশে লেখা থাকে আনুমানিক কত ক্রেডিট যেতে পারে। বেশি লাগলে আগেই বলে দেয়, চুপচাপ কেটে নেয় না।

অফলাইন ও লাইসেন্স

লাইসেন্স যাচাই হয় আপনার মেশিনেই

লাইসেন্স একটি সই করা ফাইল, আপনার কম্পিউটারের সাথে বাঁধা, আর যাচাই হয় অফলাইনে। অর্থাৎ ইন্টারনেট না থাকলে কখনোই “লাইসেন্স যাচাই করা যাচ্ছে না” বলে আটকে যাবেন না — যেটা ক্লাউড সফটওয়্যারে চেম্বারের মাঝখানে হতে পারে।

  • কম্পিউটার বদলালে লাইসেন্স সরিয়ে নেওয়া যায়
  • আপডেট খোঁজা বন্ধ রাখা যায়
  • ওষুধের তালিকার আপডেট আলাদা — সই মিলিয়ে নেওয়া হয়

প্রশ্ন

কাজের খুঁটিনাটি

পুরোনো রোগীর তথ্য আনা যাবে?
এক্সেল বা CSV ফাইল থাকলে আনা যাবে — নাম, মোবাইল, বয়স, ঠিকানা। পুরোনো প্রেসক্রিপশন কাগজে থাকলে সেগুলো আনার উপায় নেই, তবে রোগীর ফাইলে নোট হিসেবে লিখে রাখা যায়।
প্রেসক্রিপশন বাংলায় ছাপা যাবে?
যাবে। রোগীর নাম, পরামর্শ, ফলো-আপের তারিখ — বাংলায় ছাপবে। ওষুধের নাম DGDA-র তালিকায় যেভাবে লেখা সেভাবেই থাকে, কারণ ফার্মেসিতে ওই বানানটাই খোঁজা হয়।
একাধিক চেম্বারে আলাদা ফি রাখা যায়?
যায়। প্রতিটি চেম্বারের নিজের ফি, নিজের সময়, নিজের ভাগাভাগির হিসাব — এমনকি নিজের টাইম জোন পর্যন্ত আলাদা রাখা যায়।
ল্যাব রিপোর্ট OCR কী কাজ করে?
রিপোর্টের ছবি তুললে তার লেখাগুলো পড়ে ভিজিটে তুলে দেয় — CBC-র মান, ক্রিয়েটিনিন, HbA1c এরকম। ফলে পরের বার আগের রিপোর্টের সাথে মিলিয়ে দেখা যায়, খুঁজে বের করতে হয় না। এটি রিপোর্ট ব্যাখ্যা করে না, কেবল লিখে নেয়।

আজই শুরু করুন

৩০ দিন বিনামূল্যে চালিয়ে দেখুন। কার্ড লাগবে না, কিছু ইনস্টল করে ফেলে রাখার ঝামেলা নেই — ভালো না লাগলে মুছে ফেলবেন।